নতুন সুখের সন্ধানে সাকিব

মিরপুর, ঢাকা

প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে অনুশীলন পর্বের খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। তার সামনে ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে না পারা সৌম্য সরকার ছাড়া জিম্বাবুয়ে সিরিজের চূড়ান্ত স্কোয়াডের সব সদস্য। পাশ দিয়ে তখন রানিং করছেন এনামুল হক বিজয় ও রুবেল হোসেন। একজন ইনজুরির কারণে এই সিরিজে নেই। আরেকজন ঝরে পড়েছেন প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে। এ দুজনের তাই জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলন করার কথা নয়। তবুও তাদেরকে ডেকে নিলেন মাশরাফি! দলে না থাকতে পারায় ওই দুজনের মধ্যে মন খারাপের কোনো হাওয়া থাকলে তা নিশ্চয় মুহূর্তেই ‘হাওয়া’ হয়ে গেছে! বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সুখি পরিবার হয়ে উঠার প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে ছোট্ট এই দৃশ্যটাকে উপস্থাপন করা যেতে পারে। তো এই সুখি পরিবার এখন ছুটছে অন্য সুখের দিকে। কী সেই সুখ? সেই সুখ বড় দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারার। গতকাল অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাকিব জানিয়ে গেছেন যে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবার বড় দলের মতো খেলতে চায় বাংলাদেশ। এই চাওয়া পূরণ করতে পারাকেই মাশরাফিদের নতুন সুখ হিসেবে ধরে নিতে পারেন আপনি!

বড় দল হয়ে উঠতে পারার আকাঙ্খার কথা ঘোষণা করা সাকিব এই সিরিজে খেলতে পারবেন কিনা তা নিয়েই ছিলো সংশয়। প্রথমবার বাবা হচ্ছেন বলে বোর্ড থেকেও তার প্রতি ছুটি কাটানোর সবুজ সংকেত দেয়া ছিলো। কিন্তু সাকিব চলে এসেছেন সিরিজ খেলতে। এই চলে আসার পিছনে তিনি অবশ্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন স্ত্রীকে! সেটা কীভাবে? শোনা যাক সাকিবের কথাতেই, ‘সিরিজ খেলতে আসার পিছনে আমার স্ত্রীর সাহায্যের কথা বলতেই হবে। ও-ই আমাকে চলে আসতে বলেছে।’ ঠিক কী কথা বলেছেন স্ত্রী, তাও শুনিয়েছেন সাকিব, ‘ও বলেছে, এখানে বসে দেশের খেলা দেখলে তোমার যে মুখের অবস্থা হবে, তা আমি দেখতে চাই না। তুমি বরং চলেই যাও। প্রয়োজনে আবার আসা যাবে!’ বলতে বলতে হেসে উঠেন বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার।

হাসি অবশ্য চলছিলো সাকিব সংবাদ মাধ্যমে সামনে আসার বেশ খানিকটা আগে থেকেই। ফিল্ডিং ও থ্রোয়িং অনুশীলনের এক পর্যায়ে পুরো দলকে দুই ভাগ করে দেন কোচ। একভাগে সাকিব, তামিম ও মুশফিকদের মতো সিনিয়ররা, অন্য পাশে আল আমিন, সাব্বির ও জুবায়েরদের মতো নতুনরা। ট্রেনার মারিও ভিলাভারায়েন বল ছুঁড়ছিলেন সাকিবদের দিকে আর আল আমিনদের দিকে ছুঁড়ছিলেন হিথ স্ট্রিক। এই পর্বে কোন দল বেশিবার বল ধরে স্ট্যাম্পে লাগাতে পারবে, সে হিসেবে পয়েন্টও দিচ্ছিলেন হাথুরুসিংহে। মজার এই অনুশীলন পর্বকে ছোট্ট করে ‘ফুরফুরে মেজাজে’ বলে চালিয়ে দেয়া যায়। অর্থাৎ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ সামনে রেখে মাশরাফিরা স্বাভাবিকভাবেই তুমুল আত্মবিশ্বাসী। সিরিজটি অন্য এক বিচারে স্বস্তির উপলক্ষ্যও। স্বস্তির দিকটি সামনে এনে কথা বলেছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘সিরিজটি হচ্ছে বলে ভালো লাগছে। একটি দল (অস্ট্রেলিয়া) সিরিজ স্থগিত করার পর জিম্বাবুয়ে এসে আমাদের এক রকম সাহায্যই করলো। বাংলাদেশে ক্রিকেট নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা কখনো তৈরি হয়নি। আমি আশা করি ভবিষ্যতেও হবে না।’ জিম্বাবুয়ে আসায় খুশিও প্রকাশ করেছেন সাকিব।

সাকিব যখন মিরপুরে এ সব কথা বলছিলেন জিম্বাবুয়ে তখন পা রেখেছে ঢাকায়। তারা আসায় সাকিব খুশির কথা জানালেও  তার পরের কথায় জিম্বাবুয়ে দলের জন্য অশনি সংকেতই বহে আনবে! সিরিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে সাকিব বলেন, ‘ওদের সঙ্গে আমরা নিয়মিতই ভালো খেলছি। এবার তাই প্রভাব খাটিয়ে খেলতে চাই।’ প্রভাব খাটানো’র ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সাকিব, ‘যেভাবে বড় দল ছোট দলের বিপক্ষে খেলে।’ সাকিবের এই প্রভাব খাটিয়ে খেলতে চাওয়া মাঠে সত্যি সত্যিই হয়ে গেলে একসঙ্গে দুই তৃপ্তি পাওয়া হবে বাংলাদেশের। এক হলো নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রিকেট-বছর। আরেক হলো- পাওয়া যাবে নতুন সুখের সন্ধান!

মূল লেখা মানবকণ্ঠে প্রকাশিত: http://www.manobkantha.com/2015/11/03/77302.php

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s